সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ নির্বাচনী ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জনগণের জন্য ‘মালিকানা ফিরে পাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “শহীদদের স্বপ্ন বৃথা যেতে দেওয়া হবে না; একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।” ভাষণে তিনি আগামী ৫ বছরে দেশে ও বিদেশে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকার স্নাতকধারীদের জন্য চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ ‘আর্থিক ভাতা’ প্রদানের ঘোষণা দিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন:
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: দেশের প্রতিটি নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষকদের সরাসরি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার করেন তিনি।
- ধর্মীয় ও প্রশাসনিক সংস্কার: সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনর্বহাল এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সময়মতো নতুন ‘জাতীয় পে-স্কেল’ কার্যকরের ঘোষণা দেন।
- দুঃখ প্রকাশ ও ভুল স্বীকার: ভাষণের এক পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপির বিগত দিনের অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন।
- স্বাস্থ্য ও প্রবাসী সেবা: নাগরিকদের জন্য এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ এবং প্রবাসীদের বিমানবন্দর ও বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা দিতে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তনের কথা জানান তিনি।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দিন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকার সর্বোচ্চ কঠোর হবে এবং দেশের পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে।



















