সোমবার , ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

প্রেস সচিবের মুখে শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত রাতের বর্ণনা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ৮, ২০২৫ ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ ও হত্যা করতে যুবলীগ–ছাত্রলীগকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তার ভাষ্য, এই কৌশল বারবার ব্যবহার করলেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা শেষ পর্যন্ত জাতির ব্যাপক প্রতিরোধে পড়েছিল।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড’ বলতে সাধারণত মতিঝিলের শাপলা স্কয়ার এলাকাকে কেন্দ্র করে হওয়া হত্যাকাণ্ডকেই বোঝানো হয়। ৫ মে রাতেই পল্টন, বিজয়নগর, নাইটিঙ্গেল মোড় ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং হতাহতের খবর আসতে শুরু করে।

তিনি জানান, সেদিন এএফপি’র ঢাকা অফিস ছিল বর্তমান বিডিবিএল ভবন এলাকায়। সেখানে বসে দেখা যাচ্ছিল শাপলা চত্বরে কয়েক দশক হাজার হেফাজত সমর্থকের সমাবেশ। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এক–দুটি লাশ আনা হতে থাকে। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা তখনো পরিষ্কার ছিল না।

রাত আটটার দিকে প্রথম বড় তথ্য আসে শাহিদবাগ–মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতাল থেকে—হেফাজত সমর্থকের ছয়টি লাশ নেওয়া হয়েছে, প্রতিটির মাথায় গুলির চিহ্ন। বহুবার ফোন যাচাইয়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় উৎস পাওয়ার পর এএফপি নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে, যা তখনকার কোনো স্থানীয় মাধ্যমের চেয়েও বেশি ছিল।

পরদিন কাকরাইলের ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে আরও লাশের খবর নিশ্চিত হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বড় হত্যাকাণ্ডের তথ্য মেলে। ভোরে পরিবহন বন্ধ থাকায় হেঁটে বাড়ি ফেরা হেফাজত সমর্থকদের ওপর বিজিবির গুলি চালানোর অভিযোগ উঠে, যাতে প্রায় ২০ জন নিহত হয়। হাসপাতালগুলোতে লাশের সন্ধান পেতে সাংবাদিকরা ছুটে বেড়ালেও পুলিশ–বিজিবি কোনো তথ্য দেয়নি।

তিনি জানান, ঢাকার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, আইজিপি ও তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং আন্দোলন প্রতিরোধকে ‘দেশকে তালেবান রাষ্ট্র হওয়া থেকে রক্ষা’ হিসেবে প্রচার করেন। তারা খুব সামান্য হতাহতের দাবি করলেও এএফপি’র হিসাব তখন ৪৯-এ পৌঁছে যায়। বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য প্রতিটি মৃত্যুর উৎস উল্লেখ করতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মানবাধিকার সংগঠন ’অধিকার’ পরে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ বলে জানায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও তদন্তে একই ধরনের সংখ্যা পায়। শফিকুল আলম আরও জানান, পল্টন ও আশপাশের এলাকায় বহু হত্যাকাণ্ডই যুবলীগ–ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী কর্মীরা করেছে। তাদের মধ্যে জাহিদ সিদ্দিকী তারেক ও রিয়াজ মিল্কির নাম তিনি উল্লেখ করেন—যার মধ্যে মিল্কিকে তারেক গুলি করে হত্যা করেছিল, আর তারেক পরে র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

তিনি লেখেন, গত এগারো বছর ধরে আওয়ামী লীগ একই কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করেছে। তবে অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা সারাদেশে অসহযোগ ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত