বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে দলীয় কর্মীর মতো কাজ করেছেন, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ও গোয়েন্দা শাখা তাদের খুঁজে বের করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় বা অনিয়ম নজরে এলে তাদের তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এই নেতিবাচক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ‘ডোসিয়ারে’ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, কর্মকর্তাদের সচেতনতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর আরও ৮টি অনুরূপ প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক বুনিয়াদি ও উচ্চতর কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা এবং শিষ্টাচার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারি চাকরির শূন্য পদের খতিয়ান ও শীর্ষ পদের জটলা
এদিন সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের একটি বড় খতিয়ান তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের জনবলের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করেন, যা নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| পদের বিবরণ / স্তর | অনুমোদিত/কর্মরত সংখ্যা | শূন্য পদের সংখ্যা |
| মোট সরকারি চাকরিজীবী | ১৪,৬৪,৩৫০ জন (কর্মরত) | ৫,২১,৯২২টি |
| সব ক্যাডারে মোট শূন্য পদ | — | ৮,০৯৯টি |
| সচিব ও সিনিয়র সচিব | ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন কর্মরত | ২টি |
| অতিরিক্ত সচিব | ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন কর্মরত | ১০ জন অতিরিক্ত (পদ নেই) |
| যুগ্ম সচিব | ১,১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন কর্মরত | ২২৩টি |
| উপসচিব | ২,২৪৫টি পদের বিপরীতে ২,৯৪০ জন কর্মরত | ৬৯৫ জন অতিরিক্ত (পদ নেই) |


















