থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিবাদপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সীমান্ত বরাবর বিমান হামলা চালিয়েছে।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সি সা কেত প্রদেশের সীমান্ত লক্ষ্য করে কম্বোডীয় সেনারা গুলি ছোড়ে। এতে দুই থাই সেনা আহত হন। সংঘাতের পর থাই বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়। স্থানীয় সময় ২টা ৫০ পর্যন্ত সংঘাত স্থায়ী হয়।
আহত দুই সেনার মধ্যে একজনের পায়ে, অপরজনের বুকে আঘাত লেগেছে। সংঘাত থামার পর থাইল্যান্ডের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্তবর্তী চার প্রদেশ—বুরি রাম, সুরিন, সি সা কেত ও উবন রাতচাথানি থেকে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভোরে থাই বাহিনী দুই স্থানে আক্রমণ চালিয়েছে এবং কম্বোডীয় সেনারা পাল্টা আক্রমণ চালায়নি।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ জুলাইয়ে পাঁচ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। ওই সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়, যা অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে স্বাক্ষরিত বিস্তৃত শান্তিচুক্তিতে পরিণত হয়। জুলাইয়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন নিহত ও প্রায় তিন লাখ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়।
সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে গত মাসে একজন থাই সেনার গুরুতর আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড জানায়, তারা কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থগিত করছে। বর্তমানে চার জেলার তিন লাখ ৮৫ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ৩৫ হাজার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।
৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বেশ কয়েকটি অনির্ধারিত স্থানে শতাধিক বছর ধরে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ চলছে। ১৯০৭ সালে ফরাসি শাসনামলে কম্বোডিয়ার সীমান্ত মানচিত্র তৈরির পর থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। যদিও বছরজুড়ে উত্তেজনা থাকে, তবে মাঝে মাঝে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে আসছে
সূত্র: রয়টার্স, ব্যাংকক পোস্ট


















