রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার (১ জুন) অভিযোগ গঠন (চার্জ) শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হলে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগে, গত ২৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান মূল আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে নিখুঁতভাবে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে সরাসরি ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে উক্ত লোমহর্ষক অপরাধে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার বাবা-মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেল রানার বন্ধ রুমের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে তারা ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনসহ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং ঘরের ভেতর থাকা একটি বড় প্লাস্টিকের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে উপস্থিত সকলে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ-বিচ্ছিন্ন করে লাশটি বাথরুম থেকে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঘাতক সোহেল রানা রুমের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বপ্নাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল উপড়াকারী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এই নৃশংস ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে গত ২১ মে ঘাতক সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। রামিসার পরিবার পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকার ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থেকে বনানীর একটি বেসরকারি অফিসে কর্মরত আছেন, যেখানে আসামিরাও অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকত। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আজ সোমবার আদালত খোলার প্রথম দিনেই মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে শুনানির জন্য রাখায় সচেতন মহল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করছেন।



















