বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

সাজেকে পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, নিরাপত্তা বাহিনীর ৬ সদস্য আহত

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৬:১৩ অপরাহ্ণ

Spread the love

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার পথে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অবরোধকারীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

আব্দুর রকিব বলেন, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তাঁদের খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় সাজেকের উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা বাধা দেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থাকেন পর্যটকেরা।

তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় পর্যটক, সরকারি সম্পদ ও জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। তবে এ ঘটনায় গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তিনি।

গোলাগুলি নিয়ে ইউপিডিএফের বক্তব্য

এদিকে সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির খবরকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি।

বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেএসএস-সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে চলমান সড়ক অবরোধ বানচাল করার চেষ্টা চলছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেক পর্যটন সড়কে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু করে ইউপিডিএফ-নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠন—‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’।

এর আগে ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দাবি পূরণে অগ্রগতি না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় এবং বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দফায় অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।

সংগঠন দুটির নেতাদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু) সশস্ত্র সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ ও জুমচাষিদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। পাহাড়ি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেএসএসের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ডা. গঙ্গামানিক চাকমা। তাঁর দাবি, ইউপিডিএফ ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাজেকে ইউপিডিএফের কর্মকাণ্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

অবরোধের মধ্যে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সকালে প্রায় তিন হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়ে যান।

বারবার সড়ক অবরোধ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধের ঘটনায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা ও দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে কটেজগুলোতে শতভাগ বুকিং ছিল। দুই দিনের জন্য বেড়াতে এসে অনেক পর্যটককে এক দিন অবস্থান করেই ফিরে যেতে হয়েছে।

তাঁদের ভাষ্য, ২৫ ও ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন রিসোর্টের আগাম বুকিংও বাতিল হয়েছে। অবরোধের কারণে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে।

সাজেকে অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ নিজেরাই কবরে ঢুকে গেছে: প্রিন্স

দেশের এইচএসসি লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ

মালয়েশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণা

জুমার নামাজ না পড়লে মালয়েশিয়ায় কারাদণ্ড বা জরিমানা

৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

সুপ্রিম কোর্টে আলো ছড়াচ্ছেন ১২ নারী বিচারপতি

নাগেশ্বরীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, নারীসহ তিনজন নিহত

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী দল, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন চাই: দুদু

আকাশে ইঞ্জিন বিকল বোয়িং বিমানের, ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ালেন পাইলটরা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট: জনবান্ধব হবে, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়