বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য এক দীর্ঘ লড়াই এবং গৌরবের প্রতিফলন। উপমহাদেশের প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবে ১৯২৩ সালে বম্বে হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত হয়ে পথ দেখিয়েছিলেন কর্নেলিয়া সোরাবজি। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে ১৯৫৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েন ব্যারিস্টার সালমা সোাবহান। মানবাধিকার রক্ষায় ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি আইন পেশায় সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে রাবিয়া ভূঁইয়া এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেন।
বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্রেকথ্রু তৈরি করেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি দেশের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ—উভয় জায়গাতেই প্রথম নারী বিচারপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনও কোনো নারী প্রধান বিচারপতি হওয়ার সুযোগ পাননি, তবে সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতর বেঞ্চগুলোতে নারীদের সরব উপস্থিতি বিচার বিভাগে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ১১ জন নারী বিচারপতি সক্রিয়ভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন। তাঁরা হলেন— বিচারপতি ফাতেমা নজীব, বিচারপতি কাজী জিনাত হক, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের, বিচারপতি মুবিনা আসাফ, বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা, বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী, বিচারপতি নাসরিন আক্তার, বিচারপতি সাথিকা হোসেন, বিচারপতি জেসমিন আরা বেগম, বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এবং বিচারপতি উর্মি রহমান। আইন ও বিচারের এই শীর্ষ পর্যায়ে ১২ জন নারী বিচারপতির মেধা ও নিষ্ঠা বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে।



















