পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনেই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে. একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস ও লোকাল লেগুনার মধ্যে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং এই ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন. গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে. দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় সড়কের এক পাশে চার চাকার লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে এবং এর সামনের অংশটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে. গাড়ির চারদিকের রাস্তায় ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় লেগুনার ভেতর আটকে থাকা রক্তাক্ত ও আর্তনাদরত আহত যাত্রীদের সেখান থেকে বের করে আনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা.
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, পটিয়া অভিমুখে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে বিপরীত দিক অর্থাৎ কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ‘ঈগল পরিবহন’-এর একটি দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়. সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং লেগুনার ভেতর থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান. এই দুর্ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হওয়া মোট ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন. নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং বর্তমানে আহত বাকি সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে তাদের নিবিড় চিকিৎসা চলছে.
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত লেগুনা দুটিকে পুলিশ হেফাজতে জব্দ করা হয়েছে, তবে ঘটনার পরপরই দুই গাড়ির চালক ও হেলপার কৌশলে পালিয়ে গেছেন. এই দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে—চালকের অসাবধানতা নাকি ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান. এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি ধীর ও স্থবির হয়ে পড়ে. পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের যৌথ সহায়তায় রেকার দিয়ে সড়ক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়.



















