রবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

১৪ বছরেও ফেরেননি ইলিয়াস আলী, এখনো অপেক্ষায় পরিবার

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম ইলিয়াস আলী। একই সঙ্গে নিখোঁজ হন তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী। এরপর কেটে গেছে ১৪ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে ইলিয়াস আলীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এখনো তাঁর ফেরার অপেক্ষায় পরিবার।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই ছিল তাঁর বড় ছেলে আবরার ইলিয়াসের এইচএসসি পরীক্ষা। বাবার নিখোঁজ হওয়ার সময় কিশোর আবরার এখন ব্যারিস্টার। কিন্তু জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও বাবার ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাননি তিনি।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছেলে আবরার ইলিয়াস, লাবিব শারার ও মেয়ে সায়ারা নাওয়াল এখনো বিশ্বাস করেন, একদিন হয়তো পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন ইলিয়াস আলী। স্বামীর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন লুনা। সংসদে দাঁড়িয়েও তিনি স্বামীর অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময়েও পরিবারের কাছে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর আসেনি।

ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তদন্তাধীন। গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের প্রভাবশালী দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, গুমের পর ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরিবার সেই তথ্য মেনে নেয়নি। তাদের বিশ্বাস, ইলিয়াস আলী এখনো জীবিত এবং একদিন ফিরে আসবেন।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, তিনি স্বামীর সন্ধান চান এবং যারা তাঁকে গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ, অতীতের ঘটনা তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে পৃথক আইনি কাঠামোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে, যা এখন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাবা নিখোঁজ হওয়ার রাতের স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসকে। তিনি জানান, শুরুতে পরিবার বুঝতেই পারেনি এটি গুমের ঘটনা। তাঁরা ভেবেছিলেন, বিষয়টি সাময়িক এবং দ্রুতই ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পরিবারকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন বলে জানান আবরার।

আবরার বলেন, বাবার পাশাপাশি তাঁদের গাড়িচালক আনসার আলীকেও গুম করা হয়েছিল। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, শুধু একজন চাকরিজীবী ছিলেন। আনসার আলীর পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর মেয়ে সায়ারা নাওয়ালের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। অন্যদিকে আনসার আলীর মেয়ের বয়স তখন এক বছরেরও কম। এত ছোট শিশুদের কাছে স্বজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বোঝানো পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন।

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে আবরার বলেন, প্রত্যেক ভুক্তভোগী পরিবারের সত্য জানার অধিকার রয়েছে। তাঁদের প্রিয়জনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেই সত্য অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট উত্তর বা সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াস আলীর সন্ধান না মেলায় পরিবারের অপেক্ষা যেন শেষ হওয়ার নয়। আবরারের ভাষায়, তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল; কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিবার এখনো কিছুই জানে না। ফলে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা আজও পরিবারের কাছে এক গভীর রহস্য হয়ে আছে।

সর্বশেষ - অপরাধ