বুধবার , ১০ জুন ২০২৬ | ৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আলোচিত মামলায় ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা দম্পতি সম্পূর্ণ খালাস

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৬ ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বহুল আলোচিত ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিয়ে সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা থেকে অবশেষে আদালত কর্তৃক সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার নাসির হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি. আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এই রায় ঘোষণা করেন. আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পক্ষ ও বাদীপক্ষ আইনগতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে সসম্মানে খালাস দেওয়া হলো. নাসির ও তামিমা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ আইনি অবসান ও ডিভোর্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তারা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন.

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াইয়ের কালপঞ্জি

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও ক্যাবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মির এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতার শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে. এই দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • মামলা দায়ের (২০২১): ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেনের সঙ্গে তামিমা সুলতানার প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে. পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার জমকালো বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন দাবি করেন যে, আইনগত ডিভোর্স ছাড়াই তামিমা আবার বিয়ে করেছেন. এই অভিযোগে তিনি ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলা দায়ের করেন.
  • অভিযোগ গঠন (২০২২): পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়. পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ও ৪৯৭ ধারায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন.
  • সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক (২০২৩-২০২৬): আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২০ মার্চ এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়. দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করেন. গত ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়, যেখানে তামিমা নিজে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাফাই সাক্ষ্য দেন. পরবর্তীতে গত ৬ মে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের চূড়ান্ত ও দীর্ঘ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন (১০ জুন) ধার্য করেছিলেন.

আদালতের চূড়ান্ত রায় ও খালাস

আজ আদালতে শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালেও বিবাদী বা আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু (নাসিরের পক্ষে) এবং অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম (তামিমার পক্ষে) আদালতে নথিপত্র সহ প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, তামিমার প্রথম বিয়ের ডিভোর্স নোটিশ আইনসম্মত ছিল. দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের মানসিক ও আইনি ধকল শেষে আজ বিজ্ঞ আদালত উভয়কে নির্দোষ ঘোষণা করে মামলাটি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করে দেন, যার মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত আইনি নাটকের চূড়ান্ত অবসান ঘটলো.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত