ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সাবমেরিন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী. শনিবার (৩০ মে) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী. সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত মহাসাগরে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বাইরের শক্তিগুলোর ক্রমাগত উপস্থিতি এই অঞ্চলকে সহযোগিতার যুগ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে নিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে.
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন-পাকিস্তানের যৌথ তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে চীনের তৈরি চারটি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন যুক্ত হয়েছে. এ প্রসঙ্গে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, একটি পেশাদার নৌবাহিনী হিসেবে তাঁরা আশপাশের সব ঘটনা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাঁদের সব কর্মকাণ্ডই হুমকি-সচেতন ও সক্ষমতাভিত্তিক. তিনি আরও জানান, ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার ‘প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া’ (পি-৭৫আই) নামে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে. এই প্রকল্পের আওতায় শিগগিরই ছয়টি অত্যাধুনিক স্টেলথ সাবমেরিন এবং দুই শতাধিক যুদ্ধজাহাজ দেশীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়নে তৈরি করে নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হবে.
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁরা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তাঁরা এগোচ্ছেন না. তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে ভারতের ন্যায্য স্বার্থ সুরক্ষা করা এবং এই অঞ্চলকে একটি স্থিতিশীল, মুক্ত, খোলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা. এই নতুন সামরিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন.



















