গতকাল সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হারের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার মাত্র ৬২.২৫ শতাংশ, যা ২০০৭ সালের (৫৮.৩৬%) পর সবচেয়ে কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জনই অকৃতকার্য হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে বরাবরের মতো এবারও পাসের হার (৬৬.৬৮%) এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। অন্যদিকে, সারাদেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যার মধ্যে ২২৬টিই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন। এতে করে আসন্ন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, মূলত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে গণহারে ফেল এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিপর্যয়ই (পাসের হার ৪৮.৭৪%) সামগ্রিক ফলাফলে এই বড় ধসের প্রধান কারণ। সাধারণ বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে তলানিতে রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ড (৫৭.৩৯%), যেখানে ইংরেজিতেই প্রতি ১০০ জনে ৩৩ জন ফেল করেছে। সার্বিক পাসের হারে ঢাকা বোর্ড (৭১.৬৩%) শীর্ষে এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার হারে রাজশাহী বোর্ড (৯.১৫%) এগিয়ে রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপর্যয়ের মাঝেও এবারের বড় চমক ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়, যেখানে প্রায় সব বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৮ শতাংশের ওপরে। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিতেও শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল প্রদর্শন করেছে।


















