উপদেষ্টা নিয়োগ ও পদমর্যাদা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের শক্তিশালী টিম গুছিয়ে নিয়েছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৫ জনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় ৫ উপদেষ্টা: পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা:
- মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ: বর্ষীয়ান এই নেতাকে নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত বিষয়ে পরামর্শের জন্য রাখা হয়েছে।
- নজরুল ইসলাম খান: শ্রমিক নেতা ও অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক শ্রম ও শিল্প খাতে গুরুত্ব পাবেন।
- রুহুল কবির রিজভী আহমেদ: দলের দীর্ঘদিনের এই মুখপাত্রকে প্রশাসনের সমন্বয় ও রাজনৈতিক বিষয়ে পরামর্শের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ: সাবেক সচিব হিসেবে তিনি প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব পাবেন।
- অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতি প্রণয়নে প্রধান পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ৫ উপদেষ্টা: পেশাদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে:
- হুমায়ুন কবির: কূটনৈতিক ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক পরামর্শের জন্য।
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম: প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।
- ডা. জাহেদুর রহমান: স্বাস্থ্য খাত ও জননীতি বিশ্লেষক হিসেবে তিনি ভূমিকা রাখবেন।
- ড. মাহাদি আমিন: আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিশেষ কৌশলের জন্য।
- রেহান আসিফ আসাম: তরুণ এই পেশাদারকে আইটি বা বিশেষ খাতের পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারের বিশেষ কাঠামো তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি এই ১০ উপদেষ্টা রাষ্ট্র সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্র মেরামতের কাজটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। আজ বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানের পর রাতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন সরকারের দ্রুত কাজ শুরুর মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।



















