বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি ও গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী রুশনারা আলী ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে পদত্যাগপত্রের ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ডাউনিং স্ট্রিটও তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত পূর্ব লন্ডনে তার মালিকানাধীন একটি বাড়ি ঘিরে। রুশনারা প্রথমে ভাড়াটিয়াদের চুক্তি নবায়ন না করে জানিয়ে দেন যে বাড়িটি বিক্রি করা হবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ভাড়া ৭০০ পাউন্ড বাড়িয়ে সেটি পুনরায় ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় সংসদে ‘ভাড়াটিয়াদের অধিকার বিল’-এ তিনি নিজেই প্রস্তাব রেখেছিলেন, যাতে বলা হয়—বাড়ি বিক্রির কথা বলে ভাড়াটিয়াকে সরানোর পর ছয় মাসের মধ্যে তা পুনরায় ভাড়া দেওয়া যাবে না। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ভণ্ডামির অভিযোগে sk criticism ঘিরে ফেলে।
গৃহহীনদের সহায়তাকারী সংস্থা ও বিরোধী দলগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানায়। আইপেপার পত্রিকা প্রথমে এই খবর প্রকাশ করে, যেখানে এক সাবেক ভাড়াটিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়—চুক্তি নবায়ন না করার নোটিস পাওয়ার চার মাস পর ভাড়াটিয়ারা চলে যান, আর সেই বাড়ি আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়ায় তালিকাভুক্ত হয়।
পদত্যাগপত্রে রুশনারা লেখেন, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি পদত্যাগ করছি। দায়িত্বে থাকলে সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন, বিশেষত গৃহহীনদের সহায়তায় পুরনো আইন বাতিলে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করেন।
বিবিসি জানায়, ‘ভাড়াটিয়াদের অধিকার বিল’ বর্তমানে ব্রিটিশ সংসদের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই আইনে বাড়ি বিক্রির কথা বলে ভাড়াটিয়াকে সরানোর পর ছয় মাসের মধ্যে তা পুনরায় ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ করা হবে এবং অন্তত চার মাস আগে নোটিস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে আইনটি আগামী বছরের আগে কার্যকর হবে না।
লন্ডন রেন্টারস ইউনিয়নের মুখপাত্র সিয়ান স্মিথ বলেন, “রুশনারার আচরণ প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে। তার পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী ছিল।” কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেকও বলেন, “এটি এক অভাবনীয় দ্বিমুখিতা।”
২০১০ সালে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রুশনারা আলী। তিনি টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে সিলেটে জন্ম নেওয়া রুশনারা সাত বছর বয়সে লন্ডনে পাড়ি জমান। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শনে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাজনীতিতে আসেন এবং পরামর্শক সংস্থা ইয়ং ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।



















