রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রধান বিরোধী দলকে যুক্ত করতে নানা কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে সরকারি দল। অতীতে একতরফা সংবিধান সংশোধনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও দায় এড়াতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহীত পঞ্চদশসহ তিনটি একতরফা সংশোধনী যেভাবে সাধারণ জনগণ ও আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় বর্তমান প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিরোধীদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার চেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংসদ ভবনে এই বিশেষ কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিনিধি দলের নাম না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১২ সদস্য নিয়ে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম কমিটি ঘোষণা করেন, যা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধী দল এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করলেও সরকারি দল তাদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সংবিধানের সংশোধন আনা সম্ভব এবং বিরোধী দল যেকোনো সময় সদস্য পাঠালে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিকদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামায়াতের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিশেষ কমিটিতে কোনো সদস্য পাঠাবেন না। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ ও পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই কেবল সংবিধান সংস্কার সম্ভব, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে নয়। তবে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকে বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। এমন দ্বিমুখী অবস্থানের মধ্যেই মঙ্গলবার কমিটির প্রথম বৈঠকে এর কার্যপরিধি ও জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলোর আলোকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।


















