চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটভুক্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়াও মাঈনউদ্দীন নামে তাঁর এক সঙ্গী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বদুরপাড়া পাক্কাদোকান এলাকা থেকে পেট্রোল পাম্পের দিকে যাওয়ার সময় ১৫-২০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত লাঠি ও ধারালো চাকু নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
হামলার নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:
- মনোনয়ন বাতিল ও স্মারকলিপি: আহতদের স্বজন ও স্থানীয় জুলাইযোদ্ধাদের দাবি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিতর্কিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছিল জুলাইযোদ্ধারা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্মারকলিপি দেওয়ার জেরে জসিম উদ্দিনের অনুসারীরা এই প্রতিহিংসামূলক হামলা চালিয়েছে।
- জসিম উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয়: উল্লেখ্য, জসিম উদ্দিন ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের সমর্থনে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যদিও সম্প্রতি তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সোচ্চার রয়েছে।
নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া: ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে জীবন বাজি রেখেছিল, তাদের ওপর হামলা নির্বাচনি পরিবেশকে কলুষিত করছে।” অন্যদিকে, এনসিপি নেতা হাসান আলী ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে এই ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারের দোসরদের কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। আহত হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জুলাইযোদ্ধারা এই হামলার প্রতিবাদে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে।



















