পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে স্বৈরাচার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে ছয়টি পৃথক দুর্নীতির মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার দুটি বিশেষ জজ আদালতে পৃথক শুনানিতে বিচারক মো. রবিউল আলম (বিশেষ জজ আদালত-৪) এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (বিশেষ জজ আদালত-৫) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকার্য শুরুর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১৩ আগস্ট।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং কন্যা আজমিনা সিদ্দিক।
মামলায় আরও যেসব ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও কর্মকর্তারা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কে ছয়টি প্লট যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দণ্ডবিধি ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উদ্দেশ্যে এই প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার নামে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দপত্র ইস্যু করে রাজউক। এরপর একে একে তার ছেলে, মেয়ে ও বোনের সন্তানদের নামেও বরাদ্দপত্র ইস্যু ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।



















