সাইকেল মেরামতের দোকানের টুংটাং শব্দের মধ্যে বরিশালের উজিরপুরের যে কিশোর দেব মণ্ডল একটা সময় স্বপ্ন বোনার পথ খুঁজে পাচ্ছিল না কিংবা সুইমিংপুল না থাকা সত্ত্বেও অলিম্পিকে সাঁতরানোর স্বপ্ন দেখা শেরপুরের রাজমিস্ত্রির ছেলে রাকিব মিয়া—এমন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে অ্যাথলেটের প্রতিভার আলো ছড়ানোর মঞ্চ হয়ে উঠেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’। ‘স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে’ স্লোগানে শুরু হওয়া এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বের জমকালো ফাইনাল ও সমাপনী গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ ও মূল অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বিবরণসমূহ:
- প্রধান অতিথি ও মন্ত্রীবর্গের উপস্থিতি: রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
- ফাইনাল খেলার চূড়ান্ত ফল: মাঠে সরাসরি উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী বালক ও বালিকা বিভাগের ফাইনাল ম্যাচ দুটি উপভোগ করেন। বালকদের ফুটবলে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে সিলেট অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে, বালিকাদের ফুটবলে রাজশাহীকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে রংপুরের মেয়েরা।
- প্রধানমন্ত্রীর উদ্দীপনামূলক ভাষণ ও আহ্বান: গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার শিশু-কিশোরকে দেশের আসল ভবিষ্যৎ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী তাদের পড়ার সময় পড়ার পাশাপাশি খেলার সময় খেলায় মন দেওয়ার পরামর্শ দেন। নিজেদের আত্মগঠন ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার সম্পর্কে গ্যালারির কাছে জানতে চাইলে সব শিশু-কিশোর একসঙ্গে হাত তুলে সম্মতি জানায়। এ ছাড়া আশেপাশে ময়লা না ফেলা, প্রতিবছর অন্তত একটি গাছ লাগানো এবং পশুপাখির প্রতি সদয় ও মানবিক হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
- গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ: দেশজুড়ে নানাবিধ খবরের মাঝে শিশুদের এই অসাধারণ উদ্যোগ ও সাফল্যকে যেন মঙ্গলবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ‘লিড নিউজ’ বা প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে উপস্থিত সম্পাদক ও সাংবাবিদদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
- ৩১০ জনের নিবিড় প্রশিক্ষণ ও বিকেএসপিতে সুযোগ: প্রথম আসরের মোট আটটি ডিসিপ্লিন থেকে বাছাই করা সেরা ৩১০ জন খুদে ক্রীড়াবিদকে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের এক বিশেষ ক্যাম্প পরিচালিত হবে। এই নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষে চূড়ান্ত বাছাইকৃতরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করবে।
আজকের এই খুদে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনের তারকা খেলোয়াড়, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও স্থপতি তৈরি হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।:



















