ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপিত ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত অ-হস্তক্ষেপ নীতি অনুসরণ করলেও, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে নয়াদিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছে। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন বার্তা পাঠায় এবং ভারতীয় স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও সামরিক উপস্থিতিকে ভারতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে বিশেষ করে তিনটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়—মোংলা বন্দরের উন্নয়নে চীনের ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি, শিলিগুড়ি করিডোর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সংস্কারে চীনের সহায়তা এবং পেকুয়ার সাবমেরিন ঘাঁটিতে চিনের উপস্থিতি। এসব কার্যক্রম গভীর পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সুরাহা, সীমিত ভিসা ব্যবস্থার কারণে তৈরি হওয়া স্থবিরতা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ ভিসা চালু, এবং বিএসএফ-বিজিবি সমন্বয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) দ্রুত সম্পাদন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে।


















