চৈত্রের শেষ ভাগে এসে দেশজুড়ে বইছে তীব্র দাবদাহ। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৫টি জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তাপপ্রবাহের কবলে থাকা অঞ্চলসমূহ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে।
- সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় (৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
- আর্দ্রতা: চুয়াডাঙ্গায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৬ শতাংশ, যার ফলে গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
২. বৃষ্টির সম্ভাবনা ও স্বস্তির খবর
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান এই গুমোট পরিস্থিতি আগামী দুদিন বজায় থাকলেও দ্রুতই বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে।
- তারিখ: আগামী ৬ এপ্রিলের (সোমবার) পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
- শিলাবৃষ্টি: কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে, যা তাপমাত্রাকে কমিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
৩. এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস
চলতি এপ্রিল মাসে প্রকৃতি আরও রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।
- এ মাসে ১ থেকে ২ টি তীব্র তাপপ্রবাহ (তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে) হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- এছাড়া ২ থেকে ৪ টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।
৪. বর্তমান বৃষ্টিপাত ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সারাদেশে গরম থাকলেও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সেখানে (১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এছাড়া রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র এই গরমে চিকিৎসকরা প্রচুর পানি পান করার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে হিটস্ট্রোক এড়াতে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।



















