আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে দুই পক্ষের নির্ধারিত পর্যালোচনার ওপরই মূলত নতুন বেতন কাঠামোর ভাগ্য নির্ভর করছে।
সামগ্রিক অর্থায়ন পরিস্থিতি, আইএমএফের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের পর্যালোচনার মূল দিকসমূহ:
- আইএমএফের স্থগিতের পরামর্শ: দেশের বর্তমান দুর্বল রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী রক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি বিবেচনা করে আইএমএফ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠক: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র অর্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হয়। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সম্ভাব্য চড়া মূল্য ও অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত খরচের চাপ মাথায় রেখে কৌশল নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- কমিশনের সুপারিশ ও অর্থ বরাদ্দের চ্যালেঞ্জ: জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বাবদ সম্ভাব্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষিত রাখা হলেও পে স্কেলের পূর্ণ রূপ দিতে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে।
- বিকল্প বাস্তবায়ন কৌশল: একবারে বড় পরিসরে অর্থ ছাড় করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো ঠিক রেখে পর্যায়ক্রমে নতুন স্কেল কার্যকর করার চিন্তা করছে সরকার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ দিন নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারিত না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় অনেকটাই কমে গেছে। তবে বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে রাজস্ব আহরণে দৃশ্যমান উন্নতি ছাড়া সম্পূর্ণ স্কেল উন্মুক্ত করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।



















