শান্তি আলোচনার সমান্তরালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর একটি ‘চূড়ান্ত ও বড় ধরনের’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন বাহিনী কেবল আকাশপথেই নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
অ্যাক্সিওস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রের বরাতে সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- স্থল অভিযানের পরিকল্পনা: দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ যেমন— খার্ক, লারাক এবং আবু মুসা দ্বীপে সরাসরি আক্রমণ বা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বীপগুলো মূলত ইরানের তেল রপ্তানি ও সামরিক নজরদারির প্রধান কেন্দ্র।
- অবরোধ ও জ্বালানি যুদ্ধ: হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলোকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার একটি নীল নকশাও তৈরি রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া।
- কূটনৈতিক চাপ বনাম সামরিক শক্তি: হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের একটি সামরিক ধাক্কা ইরানকে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো (১৫ দফা দাবি) মেনে নিতে বাধ্য করবে। বর্তমানে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
- এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
- ইরানের পাল্টা জবাব: ইরানও বসে নেই; তারা জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার সময়সীমা আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিলেও, পেন্টাগনের ভেতরে এই চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















