নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি বেপরোয়া ও দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের আরোহী একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসন্তানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার পাঙ্গা ইউনিয়নের মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটিকে দ্রুত আটকের দাবি জানিয়েছে।
নিহত চারজনই স্থানীয় একটি ব্যাটারিচালিত ইজি-ভ্যানের যাত্রী ও চালক ছিলেন। নিহতরা হলেন—ডোমার উপজেলার নাদিয়াপাড়া এলাকার অলি বর্মনের ছেলে ও ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮), তাঁর দুই নিষ্পাপ ছেলে পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।
পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যান
স্থানীয় বাসিন্দা ও ডোমার থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে যাত্রীবাহী ওই ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে নাদিয়াপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি মটুকপুর-নদীয়া এলাকা পার হওয়ার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি মালবাহী দ্রুতগতির ট্রাক আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের তীব্র ধাক্কায় ভ্যানটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক পরিমল বর্মন এবং একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসন্তানসহ তিনজন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থা ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান:
“দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে আমাদের বিশেষ জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় আমরা তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।”
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ঘাতক ট্রাকটি দুর্ঘটনার পর দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ায় সেটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চালক ও হেলপারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এই বিষয়ে একটি নিয়মিত সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


















