আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এক উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবারের নির্বাচনে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের চার দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত মোট ১১ দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সভায় নির্বাচনী প্রস্তুতির নানা তথ্য তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সভায় জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে লুণ্ঠিত ৩,৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ইতিমধ্যে ২,২৫৯টি (৬২.৪%) উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গোলাবারুদ উদ্ধারের হার ৫২ শতাংশ। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আজ ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মূলত ‘ফাইনাল পরীক্ষার’ প্রস্তুতি শুরু হলো।


















