রবিবার , ৭ জুন ২০২৬ | ৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

রামিসা হত্যা মামলার রায়: আসামিদের ফাঁসির আদেশে বাবার সন্তুষ্টি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৭, ২০২৬ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) রায় ঘোষণা করেছেন আদালত. আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন. আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত রামিসার বাবা. একই সঙ্গে তিনি কলিজার টুকরো মেয়ের হত্যাকারীদের এই ফাঁসির রায় যেন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কার্যকর করা হয়, সরকারের কাছে সেই জোর দাবিও জানিয়েছেন.

মাত্র ৪ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন ও মামলার পূর্বাপর টাইমলাইন

দেশের বিচারিক ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাত্র ৪ কার্যদিবসে এই সংবেদনশীল মামলাটির সম্পূর্ণ বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে. মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • অভিযোগ গঠন: গত ১ জুন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়.
  • সাক্ষ্য গ্রহণ: ২ জুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় এবং মাত্র এক দিনেই মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত.
  • আত্মপক্ষ সমর্থন: ৩ জুন অনুষ্ঠিত আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামিরা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন.
  • যুক্তিতর্ক উপস্থাপন: গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৭ জুন) নির্ধারণ করেছিলেন.

নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গ

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়েছিল. ওই সময় আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশুটিকে নিজেদের ফ্ল্যাটের কক্ষে ডেকে নেন. সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সোহেলদের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান. অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন. সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাপ্লুত মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়. পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে. এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা.

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও এজলাসের চিত্র

রায় ঘোষণার পূর্বে আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, শিশুটিকে হত্যার পূর্বে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে. এছাড়া আসামি সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের জন্য নতুন কোনো আবেদন না করায় প্রমাণিত হয় যে, সে সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে. পাশাপাশি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন এবং স্বামীকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সাহায্য করেছেন.

আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে মূল আসামি সোহেল রানাকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালত প্রাঙ্গণে এনে হাজতখানায় রাখা হয়. এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যেখানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে.

সর্বশেষ - অপরাধ