রবিবার , ৭ জুন ২০২৬ | ২রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসির রায়

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৭, ২০২৬ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত。 রবিবার আসামিদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল প্রতীক্ষিত এই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন。 রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে。 আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই অর্থদণ্ডের টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী লাভ করবে。 যদি আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ মৃত রামিসার পরিবারকে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে。

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

রায় ঘোষণার সময় আদালত এই নৃশংস অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন:

  • ধর্ষণ ও আঘাতের প্রমাণ: রামিসাকে হত্যার পূর্বে যে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়েছিল, তদন্তে তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে。
  • স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার: প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেফতারের পর আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল, পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের জন্য কোনো আবেদন না করায় প্রমাণিত হয় যে, সে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে。
  • সহযোগিতা ও উদাসীনতা: সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজে অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন, স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছেন এবং এই নির্মম অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের ভূমিকা রাখেননি, যা আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে。

আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ও আসামিদের হাজিরা

এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছিল。 অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও আদালত চত্বরে তৎপর থাকতে দেখা যায়。 কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়。 রায় ঘোষণার ঠিক আগে বেলা ১১টার পর দুজনকে এজলাসে তোলা হয় এবং বিচারক চূড়ান্ত রায় পড়া শুরু করেন。 রেকর্ড মাত্র ৫ দিনের তদন্ত ও দ্রুততম সময়ে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঘোষিত এই রায় দেশে শিশু সুরক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে。

সর্বশেষ - অপরাধ