জোটের বিস্তার ও নির্বাচনী শক্তি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী ও ডানপন্থী দল। এই জোটের মাধ্যমে তারা দেশের ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে, যার মধ্যে ২১৫টি আসনে জামায়াত সরাসরি বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বাকি ৮৫টি আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে, যেখানে এনসিপি ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২২টি আসনে লড়ছে।
গণজোয়ার ও সিসিটিভি নিয়ে শঙ্কা জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত ২০ দিনে দেশের ৪৮টি জেলায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। দলটির দাবি, দেশজুড়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়ক হবে। তবে জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, কিছু নির্দিষ্ট আসনে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা রহস্যজনকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, বিশেষ কোনো পক্ষকে অনৈতিক সুবিধা দিতেই এমনটি করা হয়েছে, যা কেন্দ্র দখল বা কারচুপির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সহিংসতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অন্তত ১৫টি নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটিয়ে কোনো প্রকার ‘পাতানো নির্বাচন’ করার চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।



















