মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আজ এক নতুন এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তাদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী উভচর অ্যাসল্ট জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (LHA-7) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের গভীরে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মার্কিন রণতরি এলএইচএ-৭-এ হামলা
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ৫ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন সদস্য বহনকারী এবং অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সমৃদ্ধ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলএইচএ-৭ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হামলার তীব্রতায় জাহাজটি তার অবস্থান ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
২. ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু
ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে:
- তেল আবিব ও হাইফা: এই দুই শহরের কৌশলগত কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ড পোস্টগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
- বীরশেভা ও পেতাহ টিকভা: বীরশেভার রাসায়নিক কোম্পানি ও কারখানা এবং পেতাহ টিকভায় অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
- ব্যর্থ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: আইআরজিসি দাবি করেছে যে, ইসরায়েলের বহুল আলোচিত উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এই দফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
৩. আঞ্চলিক ঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ
অভিযানের অংশ হিসেবে ইরান ও তার মিত্ররা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান।
৪. সাগরে বাণিজ্যিক ও রসদ জাহাজে হামলা
বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম পর্যায়েই ইসরায়েলি কার্গো জাহাজ এসডিএন৭ (SDN7)-কে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। জাহাজটি বর্তমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে ধ্বংসের পথে বলে জানা গেছে।
৫. হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নজরদারি
আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, তারা পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর প্রতিটি জলযানের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। প্রতিপক্ষের সামান্যতম উসকানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে ‘কঠোরতম ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।
৬. ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর লক্ষ্য
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ৯৮তম দফা। এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক-শিল্প অবকাঠামো এবং অপারেশনাল কমান্ডগুলো ধ্বংস করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমানে এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় (Red Alert) রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন রণতরিতে সরাসরি হামলার এই ঘটনা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।


















