পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের রাতে কুমিল্লায় এক মর্মান্তিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ ট্রেনের সঙ্গে ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী বাসটি পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের সামনে পড়ে যায়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে ঠেলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় নিয়ে যায়।
- উদ্ধার কাজ: খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
- চিকিৎসা: আহতদের দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মাত্র ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পেছনে রেলওয়ের সিগন্যালম্যানের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা ও ট্রেনের যাত্রীরা।
- সিগন্যাল বিভ্রাট: ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রেল ক্রসিংয়ে সিগন্যাল না থাকার কারণেই বাসটি লাইনে উঠে পড়েছিল।
- সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ: স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন দিলেও সময়মতো কোনো সাড়া মেলেনি, যা নিয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে সরানোর কাজ চলছে। রেল পুলিশ ও জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঈদের খুশির মাঝে এমন শোকাবহ সংবাদ পুরো কুমিল্লায় বিষাদের ছায়া নামিয়ে এনেছে।



















