জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায় স্বীকার করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে, যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ রাশিয়া ও সৌদি আরব এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনা এ প্রস্তাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইসিজের এই মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও এটি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলা ও বিচারে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নিয়ে বুধবারের ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ভারত, তুরস্ক ও কাতার ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সিদ্ধান্তকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করলেও, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস দাবি করেছেন যে প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে “অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি” রয়েছে। ভোটের আগে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি খরা, ফসলহানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন, যার ফলে ইতোমধ্যে তুভালুর এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় জলবায়ু অভিবাসন ভিসার আবেদন করেছেন এবং নাউরু সরকার জলবায়ু তহবিল গঠনে বিদেশিদের কাছে পাসপোর্ট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, সেই সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান



















