পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯০তম বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিন দিনব্যাপী এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে, যা আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে। এর আগে গতকাল বুধবার (২০ মে) বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি ৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছায়। এবারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। আগামী ৩১ ডিসেম্বর (২০২৬) ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির সময়সীমা শেষ হতে চলায়, মেয়াদ ফুরানোর আগে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের এটাই শেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব: বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সম্মানিত সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে যুক্ত হয়েছেন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মূল নীতিমালা (শুষ্ক মৌসুম: জানুয়ারি-মে):
┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐
│ প্রবাহ > ৭৫,০০০ কিউসেক │ ───> │ প্রবাহ ৭০,০০০-৭৫,০০০ │ ───> │ প্রবাহ < ৭০,০০০ কিউসেক │
│ ভারত: ৪০,০০০, বাকিটি বিডি │ │ কিউসেক: বিডি পাবে ৪০,০০০│ │ দুই দেশ সমান ভাগে │
│ │ │ কিউসেক, বাকি অংশ ভারতের│ │ পানি বণ্টন করবে │
└─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘
ফারাক্কায় পানি পরিমাপ ও বৈঠকের মূল সূচি: তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির প্রথম দিন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে যাবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অংশ হিসেবে তাঁরা ফারাক্কা ব্যারেজে নেমে গঙ্গা নদীর পানির প্রকৃত প্রবাহ ও পরিমাপ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। ফারাক্কার কারিগরি পরিদর্শন শেষে আগামীকাল শুক্রবার তাঁরা পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসবেন। এরপর শুক্র ও শনিবার কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মূল বৈঠকে বসবেন, যেখানে তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির আইনি ও কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র মেনে পানি বণ্টনের আইনি বিধান রয়েছে। দীর্ঘ তিন দশক পর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে কলকাতার এই ৯০তম বৈঠকটি দুই দেশের সামগ্রিক নদী কূটনীতি ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



















