বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের মধ্যে সত্য-মিথ্যা এবং সংসদীয় শব্দ চয়ন নিয়ে এক তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা গেছে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটির মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ: ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে রসিকতার ছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বুধবার তিনি সংসদ থেকে চলে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘অসত্য’ কথা বলার যে অভিযোগ এনেছেন, তা সঠিক নয়।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ‘মিথ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা একটি অসংসদীয় শব্দ। তিনি স্পিকারের কাছে এই শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শ দেন যে, ‘মিথ্যা’ না বলে ‘অসত্য’ বললে তাঁর আপত্তি থাকত না।
- মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ওয়াকআউটের অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের (জয়নুল আবদিন ফারুক) মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। তাই এটি আগে উত্থাপিত হওয়া অসম্ভব ছিল। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলেছিলেন।
- স্পিকারের অবস্থান: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি গতদিনের হওয়ায় নতুন করে না তোলার পরামর্শ দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলাকে সাধারণত শিষ্টাচার বহির্ভূত মনে করা হয়, যার ফলে দুই নেতার এই শব্দযুদ্ধ সংসদ অধিবেশনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।


















