সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব ৫টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের ২,৫৮৩টি কেন্দ্রে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
ফেসবুক পোস্টে উপদেষ্টার তুলে ধরা ৫টি প্রধান শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ নিচে দেওয়া হলো:
- ১. অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বার্থে পরীক্ষা চালু রাখা: বন্যা কবলিত চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ সুরক্ষায় সর্বসম্মতিক্রমে পরীক্ষা সচল রাখা হয়েছে।
- ২. স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা: কোথাও যাতায়াত বিঘ্নিত বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি করার মতো যেকোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- ৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় সুযোগ: প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি চলমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে না পারে, তবে তারা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
- ৪. ভুলের জন্য পূর্ণ নম্বর প্রদান: বিতর্কিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে পাওয়া দুটি ভুলের বিপরীতে দেশের সকল পরীক্ষার্থীকে পুরো নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ৫. দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ওই ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি পরীক্ষা কেবল একটি সার্টিফিকেট অর্জনের লড়াই নয়, বরং এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। আর এ কারণেই শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট রয়েছে।



















