নতুন বছরের প্রথম ভোরে সুরের মূর্ছনায় জেগে উঠেছে রাজধানী। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, ২০২৬) ভোর সোয়া ৬টায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। ৫৯তম এই আয়োজনে এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কালজয়ী পঙ্ক্তি— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
ছায়ানটের এবারের আয়োজনের বিশেষ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অনুষ্ঠানের সূচনা ও সুরের ধারা
ভোর সোয়া ৬টায় ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানটির সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন বছরের আবাহন।
- গীতিমালা: অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আব্দুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে।
- লোকজ সুর: শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি লোক জনজীবনের মাটির সুর ও প্রকৃতিবন্দনা এবারের প্রভাতী আয়োজনে এক স্নিগ্ধ আমেজ তৈরি করেছে।
২. এবারের আহ্বান ও বার্তা
অতীতের সব গ্লানি ও ‘আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে আরও ‘মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ছায়ানট।
- সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা: ৫৯তম এই আয়োজনে ছায়ানটের স্পষ্ট আহ্বান— “আমরা নির্বিঘ্নে সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই।”
- মানবিক জয়গান: ভয়হীন চিত্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জয়গান গাওয়াই ছিল এবারের মূল বার্তা।
৩. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মাঝেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো:
- নিরাপত্তা বেষ্টনী: রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকায় বিজিবির ২০ প্লাটুন সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
- স্বাস্থ্য সতর্কতা: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলায় অনেক দর্শনার্থীকে মাস্ক পরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে মেলা প্রাঙ্গণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
- জ্বালানি সচেতনতা: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানো এবং দেশে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর প্রেক্ষাপটে এবারের উৎসবে আড়ম্বর কিছুটা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও লোকজ উপাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪. মঙ্গল শোভাযাত্রার অপেক্ষা
ছায়ানটের গান শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই ‘জ্বালানি সচেতনতা’ বা ‘প্রকৃতিমুখিতার’ কোনো বিশেষ প্রতীকী চিত্রপট উঠে আসে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রবল কৌতূহল রয়েছে।



















