ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির অন্যতম প্রধান কৃষি অঞ্চল আর্টিবোনি (Artibonite)-তে সশস্ত্র গ্যাংদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ডিফঁসার প্লাস। গত রবিবার ভোর থেকে সোমবার পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবে আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হামলার ভয়াবহতা ও নিহতের সংখ্যা
প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৭০। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামগুলোতে সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা হঠাৎ হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ ও লুটপাট চালায়। টানা একদিনের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
২. গণ-বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট
সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৬ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। এর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে আরও ২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বর্তমানে এই বিশাল সংখ্যক মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
৩. জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের দাবি
জাতিসংঘ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে। এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
৪. প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা
মানবাধিকার সংস্থা ‘ডিফঁসার প্লাস’ এবং ‘কালেকটিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনিত’ এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ:
- নিরাপত্তা বাহিনীর সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল।
- পুরো অঞ্চলটিকে কার্যত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সুযোগে গ্যাংগুলো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাইতিতে দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে গ্যাংগুলো এখন সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা কায়েম করছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



















