বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক গতিবিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ তোলেন।
জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় তাঁর বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সরকারি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ‘দলীয়করণ’ নিয়ে ক্ষোভ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে:
- জুলুশ জাদুঘর: তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর জনগণের সম্পদ, কিন্তু একে দলীয়করণের পথে নেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
- বিএনপির সমালোচনা: সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা পরিষদগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে।
- গণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
২. রাজপথের লড়াইয়ের ডাক
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনের বিকল্প দেখছেন না তিনি:
- দ্বিমুখী লড়াই: জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, সংসদের ভেতরে যতদিন সম্ভব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চলবে, তবে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে রাজপথেই।
- প্রতিরোধ: সরকার যদি পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে চায়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
৩. ১১ দলের নতুন জোট ও আন্দোলনের রূপরেখা (নাহিদ ইসলামের বক্তব্য)
একই সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগামী দিনের আন্দোলনের একটি শক্তিশালী রূপরেখা তুলে ধরেন:
- শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্ব: আসন্ন আন্দোলনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “এবার আর কর্মীরা নয়, প্রয়োজনে নেতারাই সামনে থেকে ঝুঁকি নেবেন।”
- পূর্ণাঙ্গ সফলতার লক্ষ্য: তিনি ঘোষণা করেন যে, এবারের আন্দোলন আংশিক কোনো সংস্কারের জন্য নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ সফলতা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হবে।
- শহীদদের রক্তের মর্যাদা: কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা প্রলোভনে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
৪. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আজকের এই সভাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন এবং সচিবালয়ে হজ সংক্রান্ত বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, সারজিস আলম বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ‘অলিখিত সমঝোতা’র অভিযোগ তুলেছেন। ডা. শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলামের এই কড়া হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।



















