২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আসামিদের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) আজ রোববার আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছেন। এর ফলে এ মামলার আইনি লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
আপিল বিভাগের আদেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের ওপর গত ১৫ মে শুনানি শুরু হয়, এবং ২৮ মে ও আজ রোববার শুনানি শেষে লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা এবং আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান জানান, আপিল বিভাগ লিভ দিয়েছেন এবং আগামী ১ জুলাই আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিল করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় এবং মামলার পটভূমি
দুই দশক আগে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা পৃথক মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক) বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায় বাতিল করে গত বছরের ১ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই রায় দেন। এই রায়ের ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ গ্রেনেড হামলা মামলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি খালাস পান।
গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯ পৃষ্ঠা করে পৃথক দুটি মামলার (হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা) পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। গত ১৩ মার্চ আবেদন দুটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। চেম্বার আদালত সেদিন আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান, যার ধারাবাহিকতায় আজ এই আদেশ এলো।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এই হামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।



















