মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানী ঢাকার জনজীবনে চরম অস্থিরতা নেমে এসেছে। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর বিজয় সরণি, তেজগাঁও এবং মহাখালী এলাকায় তেলের জন্য অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের চোখে ছিল ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দীর্ঘ লাইনের করুণ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মাইলব্যাপী দীর্ঘ লাইন ও প্রতীক্ষা
বিজয় সরণি থেকে শুরু হওয়া যানবাহনের সারি মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, মাঝরাতে কেবল একটি পাম্পের লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিল:
- ৪৮৩টি মোটরসাইকেল
- ৩৬৯টি ব্যক্তিগত গাড়ি
- ৩১টি পণ্যবাহী ট্রাক
২. চালকদের ভোগান্তি ও আক্ষেপ
রায়েরবাগ থেকে আসা মোটরসাইকেল চালক কামরুল হাসান জানান, রাত ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর সোয়া ৪টায় মাত্র ৬০০ টাকার তেল পেয়েছেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার এই যুদ্ধ শেষে তাঁর আক্ষেপ, “সপ্তাহে তিন দিন যদি এভাবে সাত-আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে তো জিন্দেগি শেষ!”
তেজগাঁওয়ের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই কর্মজীবীর মতো হাজারো মানুষ এখন কর্মঘণ্টা বিসর্জন দিয়ে পাম্পে সময় কাটাচ্ছেন। ক্লান্তিতে অনেক চালককে মোটরসাইকেলের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে।
৩. সরবরাহ বনাম আতঙ্ক
জ্বালানি তেলের এই সংকটের পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
- সরবরাহ ঘাটতি: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকৃত তেল পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। পাম্পগুলো এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করছে।
- আতঙ্কিত ক্রয় (Panic Buying): গত কয়েকদিনের তুলনায় পাম্পগুলোতে ভিড় কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে রাখছেন, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
৪. আশার আলো
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাতেই ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর ফলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আজ রোববার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য দপ্তর থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা আসার কথা রয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা তেলের লাইন সুশৃঙ্খল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে যানবাহন নিয়ে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।



















