বিশ্বের শীর্ষ ৮০টি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গত এক মাসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এগিয়ে থাকলেও, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে তারা বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি তেহরানের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক।
প্রভাবশালী এই গবেষণা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রণকৌশলগত বিজয় বনাম তাৎক্ষণিক আঘাত
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা তাৎক্ষণিক সামরিক আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে তারা পিছিয়ে পড়েছে। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা বা তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা পশ্চিমা শক্তি করেছিল, ইরান তা সফলভাবে রুখে দিয়েছে।
২. হরমুজ প্রণালি ও অপ্রতিসম যুদ্ধ
এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্লেষকদের মতে:
- ইরান অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) চালিয়ে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই প্রণালিটি পুনরায় সচল করতে বা দখল করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
- এর ফলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
৩. ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ ও বর্তমান অবস্থান
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত এখন একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ইরানের অনুকূলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তাদের হয় একটি কৃত্রিম বিজয় দেখাতে হবে, নতুবা কোনো অর্জন ছাড়াই পিছু হটতে হবে।
৪. বিশ্লেষণে যুক্ত প্রধান প্রতিষ্ঠানসমূহ
এই বিশেষ পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী সংস্থাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- যুক্তরাষ্ট্র: ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, কার্নেগি এন্ডোমেন্ট, সিএফআর, র্যান্ড কর্পোরেশন ও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনসহ ২২টি সংস্থা।
- ইউরোপ: যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউস, রুসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসআইপিআরআই ও ব্রুগেল।
- এশিয়া: চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ৯টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- আন্তর্জাতিক সংস্থা: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠান।
সার্বিক বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনই আসল বিষয়, আর ঠিক সেই জায়গাতেই ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।



















