মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাতে মিয়ানমারে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার প্রভাবে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৯। এর মাত্র ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে অনুভূত হয় দ্বিতীয় কম্পনটি, যার মাত্রা ছিল ৫.২।
প্রথম দফার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মিংডু (Mingdu) বা সিত্তে থেকে ৭৯ কিলোমিটার দূরে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৫২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্প দুটির গভীরতা ছিল যথাক্রমে ৩৮.৯ মাইল এবং ৪২.১ মাইল। ভূ-অভ্যন্তরে অধিক গভীরতার কারণে এবং উৎপত্তিস্থল কিছুটা দূরে হওয়ায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও প্রেক্ষাপট:
- আফটারশকের শঙ্কা: কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, এই ফল্ট লাইনটি অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও আফটারশকের ঝুঁকি রয়েছে।
- একই দিনে তিনবার কম্পন: এর আগে একই দিন মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছিল। ফলে একদিনেই বাংলাদেশে মোট তিনবার ভূ-কম্পন অনুভূত হলো।
- মৃতপ্রায় ফল্ট লাইন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, মিয়ানমারের এই অঞ্চলটি মূলত ‘সাবডাকশন জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ঐতিহাসিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ।



















