ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, আন্দোলনের প্রথম তিন দিন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ৭ জানুয়ারির পর তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাধারণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে অস্ত্রধারী ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’রা ঢুকে পড়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে এবং হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত এই সহিংসতার পেছনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CIA) এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের (Mossad) সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমেরিকা সবসময়ই ইরানের বর্তমান সরকারের পতনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এবার তারা স্টারলিংকের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে উসকানি ও অপতথ্য ছড়িয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে এবং এই বিক্ষোভটি মূলত অর্থনৈতিক কারণেই শুরু হয়েছিল, যাকে পরবর্তীতে বিদেশি অপশক্তি পুঁজি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও জানান যে, বর্তমানে নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে এবং সরকার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, ১০ জানুয়ারির পর থেকে ইরানের সব শহরে পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে অবস্থিত সকল মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ইরানের কাছে বর্তমানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তবে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি দিয়ে তাঁরা যেকোনো বহিঃআক্রমণ মোকাবিলায় সক্ষম।



















