ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকি মোকাবিলা, জরুরি উদ্ধার তৎপরতা এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নেওয়া প্রধান প্রধান সিদ্ধান্ত ও মূল বিষয়সমূহ:
- জাতীয় টাস্কফোর্স ও বিশেষ সেল গঠন: ভূমিকম্প পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ক একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হবে।
- ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের সুসংগঠিত বাহিনী: ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জরুরি সাড়াদানের জন্য ১ লাখ উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও দ্রুত যুক্ত করার কাজ চলছে।
- জরুরি অবকাঠামো স্থাপন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে গতি আনতে ও ত্রাণ সহায়তার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে ঢাকা শহরের কৌশলগত পয়েন্টে ‘হিউম্যানিটারিয়ান স্ট্যাগিং এরিয়া’ (HSA) স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- সমন্বয় ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সম্ভাব্য দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সকল সংস্থার মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা প্রচারণামূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।


















