উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে পেশায় অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ খালিদা বউফেদেশ স্পিকার হিসেবে বিজয়ী হন।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আলজেরিয়ার শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর চতুর্থ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও সংসদীয় প্রেক্ষাপটের প্রধান বিষয়সমূহ:
- রাজনৈতিক পরিচয়: খালিদা বউফেদেশ আলজেরিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এফএলএন)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির একজন অন্যতম সদস্য। এফএলএন বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোটের প্রধান শরিক।
- নির্বাচনী পরিসংখ্যান: ৪০৭ আসনের আলজেরীয় জাতীয় পরিষদে এফএলএন সর্বোচ্চ ৯১টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সেই সাধারণ নির্বাচনে গণভোটের হার ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম—মাত্র ২১ শতাংশ।
- সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বের সংকট: জাতীয় রাজনীতিতে আসার আগে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা খালিদা বউফেদেশ এমন এক সংসদে স্পিকারের চেয়ারে বসলেন যেখানে নারী সদস্যের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম। ৪০৭ সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান পরিষদে নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন মাত্র ২৫ জন (যা মোট আসনের মাত্র ৬ শতাংশ)। এর আগের মেয়াদে নারী সংসদ সদস্য ছিলেন ৩৮ জন এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে নারী কোটা বহাল থাকায় সেসময় ১১৮ জন নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালিদা বউফেদেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্য আলজেরিয়ার রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হলেও, কোটা বিলুপ্তির পর মূলধারার আইনসভায় নারীদের অংশগ্রহণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া দেশটির গণতন্ত্র ও লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।


















