আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মূলত দেশের অর্থনৈতিক সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিকভাবে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীপ্রধান প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একটি সাহসী পদক্ষেপ।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর অত্যাধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘দারিদ্র্য সূচক মান (PMT)’ নির্ণয় করে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের মানবিক হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে এনএফসি (NFC) এবং কিউআর কোড সম্বলিত চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জি-টু-পি’ (Government to Person) পদ্ধতিতে এই ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের ভয় থাকবে না।
পাইলটিং পর্যায়ে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, কিংবা পরিবারে বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন: গাড়ি বা এসি) থাকে, তবে তারা এই কার্ডের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা বড় ব্যবসায়িক লাইসেন্স থাকলেও এই সুবিধা মিলবে না। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।


















