বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

একনেকে তিন মেট্রোরেল প্রকল্প, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একসঙ্গে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর–কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট (হেমায়েতপুর–ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব। অন্যটি হলো এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (গাবতলী–দাশেরকান্দি) প্রকল্প।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

জানা গেছে, একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা থাকলেও পরে এর সঙ্গে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দুটি প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা এবং বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এমআরটি লাইন-১ দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় আগের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রকল্পের কাজের পরিধি ও স্কোপ ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডির পর বিভিন্ন স্থানে স্টেশনের অবস্থান পরিবর্তনসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের পরিধি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নির্মাণ ব্যয়ে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের ঋণ জাপানি মুদ্রা ইয়েনে হলেও বাংলাদেশের জন্য ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্যমান, মূল্যস্ফীতি, শ্রম ব্যয় এবং ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধির মতো বিষয়ও ব্যয় বাড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ঋণের সুদহারে।

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরুতে জাইকার ঋণের সুদের হার ছিল ০ দশমিক ৭ শতাংশ। দীর্ঘসূত্রতার কারণে বর্তমানে তা বেড়ে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব হলে সুদের হার বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রযুক্তি, ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশোধিত প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুরে বৈদ্যুতিক ট্রেন

একনেক সভায় দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগও অনুমোদন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর রুটে ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বা ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৯৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এডিবি ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) প্রকল্প ঋণ থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কোচের ১৬ সেট ইলেকট্রিক মালটিপল ইউনিট (ইএমইউ) সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জয়দেবপুরে আধুনিক ওয়ার্কশপ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর করিডোরে রেল পরিবহনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ডিজেলনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

একনেকে মোট ১২ প্রকল্প

বুধবারের একনেক সভায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুমোদিত ১২ প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট ও এমআরটি লাইন-১-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

পাশাপাশি পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভাকে অবহিত করা হয়।

সর্বশেষ - অপরাধ