দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে বালিকাদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন শিশু নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সামরিক তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৬ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রাণঘাতী হামলার জন্য সম্ভবত খোদ মার্কিন বাহিনীই দায়ী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হামলায় প্রথমে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ভুল লক্ষ্যবস্তু বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি বেসামরিক ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানে।
জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি এই ঘটনাকে বর্বরোচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হামলার পর নিহত স্কুলছাত্রী ও কর্মীদের স্মরণে ইরানে বিশাল গণ-জানাজার আয়োজন করা হয়, যা দেশটিতে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি করেছে। যদিও মার্কিন সামরিক তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই দায় স্বীকারের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত বা অবহেলাজনিত হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এই ঘটনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আগে থেকেই এই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে মার্কিন তদন্তকারীদের এই প্রাথমিক স্বীকারোক্তি পেন্টাগনকেও কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। পুরো বিশ্ব এখন তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স।



















