ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে ৮ হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এসব বিশেষ কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন এবং পুলিশের জন্য ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ (Body-worn Camera) ব্যবহার করা হবে। এছাড়া দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হবে।
বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও তিন স্তরের সুরক্ষা আইজিপি জানান, এবারের নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী ফোর্স, মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ টিম এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা কারও নেই। সাধারণ মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, পুলিশ সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিগত দিনের সহিংসতা নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি জানান, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রুখতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে। সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৩১৭টি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৫ জন নিহত এবং ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















