২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোনাজাত করা এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাঁর সেই স্ট্যাটাসের মূল বক্তব্যগুলো নিচে প্যারাগ্রাফ আকারে তুলে ধরা হলো:
প্রেসিডেন্ট জিয়ার পথ ও বহুত্ববাদী রিপাবলিক ফারুকী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে মোনাজাত করার মাধ্যমে মূলত তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই হাঁটছেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সেই পথটি ছিল নিজের ধর্মীয় পরিচয় বা আচার-রীতি গোপন না করেই একটি বহু জাতি, বহু ধর্ম ও বহু ভাষার মানুষের ‘রিপাবলিক’ বা প্রজাতন্ত্র গড়ে তোলা। যেখানে একজন মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মোনাজাতও করতে পারবেন, আবার একইসঙ্গে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটিও গাইতে পারবেন। ফারুকীর মতে, এই আদর্শটি কোনো বিশেষ মহলের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার না হয়ে বরং মানুষের নিজস্ব ও স্বকীয় আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
সাংস্কৃতিক সংকট ও ঐতিহাসিক স্মৃতি ফারুকী ১৯৫৩ সালের একটি ঐতিহাসিক ছবির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দেখা যায় ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকে প্রভাতফেরি শেষে মানুষ মোনাজাত করছে। এই ছবির সূত্র ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এবং কোন সংকোচে এই মোনাজাতের স্মৃতিকে আমাদের সামষ্টিক স্মৃতি (Collective Memory) থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল? তিনি মনে করেন, আমাদের ইতিহাসের এই অংশটিকে আড়াল করার পেছনের রাজনীতিই বাংলাদেশের অনেকগুলো সাংস্কৃতিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মানুষ তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে গৌরব করবে এবং প্রয়োজনে ২৪-এর আন্দোলনের মতো নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করবে না।



















