নিজের পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সম্প্রতি ওঠা নানা সমালোচনার প্রকাশ্য ও বিস্তারিত জবাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ককে ব্যক্তিগত ‘বন্ধুত্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করা মোটেও ঠিক নয়; তিনি মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক বিশেষ ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপটি অত্যন্ত সফলভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সম্পর্কের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক নিগ্রহের বিবরণ
সংলাপে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
- স্নেহ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক: আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৈতৃক বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই দলের সাংগঠনিক প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে বহুবার দেখা ও সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন এবং স্নেহ করে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরামর্শ দেন— এটুকুই তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কিন্তু এটিকে ‘তারেক রহমানের বন্ধু’ হিসেবে প্রচার করা হলে তা আমি বা আমার পরিবার ভালোভাবে নেব না।
- পরিবারের ওপর রাজনৈতিক নিগ্রহ: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এবং তাঁর পুরো পরিবার বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নানা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কিছু মহলে অযথা সমালোচনা চলছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের কেউ কোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক দায়িত্ব পেলে সেটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বলিষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বে তিনি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল ও নীতিগত সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি নিজেকে অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও উল্লেখ করেন।
ছেলের বিসিবির পদত্যাগ ও হলফনামার সম্পদের বৈধতার চ্যালেঞ্জ
সংলাপে নিজের ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পরিচালক হওয়া এবং নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক বিতর্কের কড়া জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী:
| সমালোচনার বিষয় | প্রতিমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও গৃহীত পদক্ষেপ |
| ছেলের বিসিবি পরিচালক পদ | যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সমালোচনা এড়াতে প্রথম বোর্ড সভার পরদিনই ছেলের পদত্যাগ। |
| ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ | নির্বাচনি হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য স্পষ্ট উল্লেখ আছে; অর্থের উৎস সম্পূর্ণ বৈধ। |
| শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমি ক্রয় | ব্যক্তি নামে নয়, বৈধ উপায়ে বিভিন্ন যৌথ লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনা হয়েছে। |
| তদন্তের মুখোমুখি হওয়া | যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ চাইলে সব সম্পদের তদন্ত করতে পারে। |
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ছেলে বিসিবির পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সেই ইতিবাচক খবরটি দেশের গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, কাউকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা নিয়মের বাইরে হিসেবে উপস্থাপনের আগে যেন পূর্ণাঙ্গ তথ্য ভালো করে যাচাই করা হয় এবং বক্তব্যের আংশিক অংশ ব্যবহার না করে পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন একযোগে সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের নির্বাচন কমিশনও (EC) এর জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাকেই এই মুহূর্তে নিজেদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর কাজের মধ্যে কোনো ভুল বা অনিয়ম নজরে এলে তা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁকে সরাসরি অবহিত করলে দ্রুত সংশোধনের সুযোগ থাকবে। গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকাই সরকারের কাজকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


















