বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ‘পুনর্ভর্তি ফি’ আদায়ের দীর্ঘদিনের যে সংস্কৃতি চলে আসছিল, তা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনোভাবেই পুনর্ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। প্রতিবছর নতুন শ্রেণিতে ওঠার সময় এই ফির নামে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে গিয়ে অনেক অভিভাবক যখন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন, তখন সরকারের এই নতুন নীতিমালা একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সই করা এই নির্দেশনায় টিউশন ফি, সেশন ফি এবং উন্নয়ন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই নতুন উদ্যোগের বিপরীতে অভিভাবকদের মধ্যে এখনো গভীর সংশয় কাজ করছে। কারণ, এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তা কৌশলে অমান্য করেছে। অনেক স্কুল সরাসরি পুনর্ভর্তি ফি না বলে ‘উন্নয়ন ফি’, ‘জেনারেটর ফি’ বা ‘রিলেশন ফি’-র মতো বিভিন্ন কাল্পনিক অজুহাতে অভিভাবকদের পকেট কাটছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রতিবছর এই আর্থিক চাপের মুখে পড়েন। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সাংবাদিক আলী আসগরের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে সরকার এই নতুন নীতিমালা জারি করতে বাধ্য হলেও, চলতি বছর ইতিমধ্যে আদায় করা কয়েক হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের দাবি কেবল কাগুজে নীতিমালা নয়, বরং এর কঠোর বাস্তবায়ন। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, রাজধানীর নামী স্কুলগুলো জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণের নামেও বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয় না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালায় নিয়ম ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হলেও, মাঠ পর্যায়ে এর তদারকি কতটুকু হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার ও শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তবেই বছরের শুরুটা অভিভাবকদের কাছে ‘আতঙ্ক’ না হয়ে প্রকৃত অর্থেই আনন্দের উৎস হয়ে উঠবে।



















